2025 - 01 - 16 205

ইসতেগফারের সময় ও স্থানঃ

এমন সময় ও স্থান রয়েছে যেখানে ইসতেগফার করা উত্তম, যদিও তাওবার দরজা সর্বদা খোলা থাকে। যেমন বিশ্বস্ত নবী বলেছেন, যার উপর সর্বোত্তম প্রার্থনা এবং সর্বাধিক পূর্ণ সালাম।

«إِنَّ بِالْمَغْرِبِ بَابًا مَفْتُوحًا لِلتَّوْبَةِ مَسِيرَتُهُ سَبْعُونَ سَنَةً لَا يُغْلَقُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا»

“নিশ্চয় পশ্চিমে তাওবার জন্য একটি দরজা খোলা আছে যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ সমতুল্য, যা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত বন্ধ হবে না।”

তথাপি এমন কিছু সময় ও স্থান রয়েছে যাতে অন্যান্য সময় ও স্থানের তুলনায় তাওবা কবূল হওয়ার বিষয়ে বেশি আশাবাদী।

সেই সময় ও স্থানগুলি যেমনঃ-

১) রাতের শেষ প্রহরঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন,

﴿وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ﴾ آل عمران:17

“এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।” সূরা আলে-ইমরান ১৭।

আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেন,

﴿وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ18﴾ الذاريات:18

“রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত।” সূরা আয-যারিয়াত ১৮

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,

“يَتَنَزَّلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ، يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ “

“আমাদের প্রভু তাবারাকা ওয়া তা’আলা প্রতি রাতে সর্বনিম্ন আকাশে অবতরণ করেন যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। তিনি বলেন, কে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাক কবূল করব। কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে তা দেব। কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। “

২) সালাতের মাঝে ও সালাতের পরেঃ যেমন তাকবীর এবং সূরা আল-ফাতিহা পাঠের মধ্যে শুরুর দুয়াঃ

“اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ، كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ المَشْرِقِ وَالمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ “

“হে আল্লাহ, আমাকে আমার পাপ থেকে দূরে রাখুন, যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব করেছেন। হে আল্লাহ, আমাকে পাপ থেকে শুদ্ধ করুন যেমন শুদ্ধ হয় একটি সাদা পোশাক নোংরামি থেকে। হে আল্লাহ, আমার পাপ ধুয়ে ফেলুন পানি, বরফ এবং শিলা দ্বারা। “

৩) সালাত শুরুর অন্য একটি দুয়া, তাতেও ইসতেগফারের সন্নিবেশ ঘটেছে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আলী রাযিঃ থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে পড়তেন,

«وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ، اللهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي، وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا، إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ، وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ، تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ»، ثُمَّ يَكُونُ مِنْ آخِرِ مَا يَقُولُ بَيْنَ التَّشَهُّدِ وَالتَّسْلِيمِ: «اللهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ».

(আমি একনিষ্ঠ ভাবে আমার মুখ সেই সত্তার দিকে ফিরালাম যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই। আর আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এবং আমি মুসলিমদের একজন।

হে আল্লাহ! তুমিই রাজা, তুমি ছাড়া কোন মা’বূদ নেই। তুমি আমার প্রভু, এবং আমি তোমার বান্দা। আমি নিজের উপর জুলুম করেছি এবং আমার পাপ স্বীকার করেছি। তাই আমার সকল পাপ ক্ষমা করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই।

আমাকে সর্বোত্তম নৈতিকতার দিকে পরিচালিত করুন, তুমি ছাড়া কেউ নৈতিকতার দিকে পরিচালিত করতে পারেনা। এবং চরিত্রের মন্দকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিন, আপনি ছাড় কেউ আমার থেকে চরিত্রের মন্দ দূরে সরিয়ে দিতে পারবে না। আমি আপনার দরবারে হাজির এবং আমি আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। সমস্ত কল্যাণ আপনার দু’ হাতে নিহিত, এবং মন্দ আপনার দিকে (সম্পৃক্ত করা উচিৎ) নয়। আমি আপনার মাধ্যমে এবং আপনার কাছে (সহযোগিতা পেয়ে থাকি)। আপনি বরকতময় এবং সুউচ্চ। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করি।)

অতঃপর তাশাহহুদ ও সালামের মধ্যে তিঁনি পড়তেন, (হে আল্লাহ! আমার অতীতের ও ভবিষ্যতের সকল গোনাহ ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে যে সকল গোনাহ করেছি এবং আমি যা বাড়াবাড়ি করেছি তা ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমার বিষয়ে আমার চেয়ে বেশী অবগত। আপনি অগ্র-পশ্চাত সর্ববিষয়ে জানেন। আপনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই।)

সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনা ‘তাশাহহুদ ও সালামের মধ্যে’ -এর পরিবর্তে এসেছে যে, তিনি যখন সালাম ফিরাতেন তখন বলতেন, (হে আল্লাহ! আমার অতীতের ও ভবিষ্যতের সকল গোনাহ ক্ষমা করুন।) —- হাদীসের শেষ পর্যন্ত।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকুতে এই দুয়া পড়তেন,

«سبحانك اللَّهُمَّ رَبَّنا وبحَمْدِك، اللَّهُمَّ اغفِرْ لي»

(হে আল্লাহ! আমাদের রব, আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দিন।)

৪) ক্ষমা চাওয়ার অন্যতম একটি স্থান ও সময় হচ্ছে সাজদা। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«أَقْرَبُ ما يَكونُ العَبْدُ مِن رَبِّهِ، وهو ساجِدٌ، فأكْثِرُوا الدُّعاءَ»

(বান্দা তার প্রভুর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সিজদা করে, তাই বেশী বেশী করো।)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাজদায় পাঠ করতেন,

«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ، وجِلَّهُ، وأَوَّلَهُ وآخِرَهُ وعَلانِيَتَهُ وسِرَّهُ»

(হে আল্লাহ! আমার সকল পাপ ক্ষমা করে দিন, তা ছোট হোক বা বড়, পূর্বের হোক বা পরের, প্রকাশ্য হোক বা গোপন।)

৫) ইসতেগফারের আরো একটি স্থান দুই সাজদার মাঝে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই স্থানে বলতেন,

«رَبِّ اغفِرْ لي، رَبِّ اغفِرْ لي»

প্রভু আমাকে ক্ষমা কর, প্রভু আমাকে ক্ষমা কর।( )

আবূ বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলবেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দূয়া শেখান। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বলঃ

«اللَّهُمَّ إنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، ولَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إلَّا أنْتَ، فَاغْفِرْ لي مَغْفِرَةً مِن عِندِكَ، وارْحَمْنِي إنَّكَ أنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ.»

(হে আল্লাহ! আমি নিজের প্রতি বড়ই জুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারেনা। তাই আমাকে আপনার তরফ থেকে ক্ষমা করে দিন। আমার প্রতি দয়া করুন, কারণ আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু।)

কোন কোন আলেম এর ব্যাখ্যায় বলছেন যে, এই দূয়া তাশাহহূদ পাঠের পর পড়তে হবে।

সহীহ মসসলিমে ছাওবান রাযিঃ থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের সালাম ফিরানোর পর নিয়মিত তিনবার ইসতেগফার পাঠ করতেন অতঃপর বলতেন,

«اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا( ) الجَلَالِ وَالإِكْرَامِ»

(হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময়। আপনার নিকট থেকেই শান্তি বর্ষিত হয়। আপনি বরকতময়, মহিমাময় ও সম্মানের অধিকারী।)( )

আল-ওয়ালিদ বলেনঃ আমি আল-আওজাইকে( ) জিজ্ঞেস করলাম, কেউ কি ভাবে ইসতেগফার করবে? তিনি বললেনঃ তুমি বল, আসতাগফিরুল্লাহ আসতাগফিরুল্লাহ।

মুসলিম বিশ্বাস করে সালাতে তাকবীরাতুল ইহরাম থেকে সালাতের শেষ পর্যন্ত ইসতেগফার চলতে থাকে। এমনকি সালাত শেষ করার পরেও ইসতেগফার করতে হয়।

অনুরুপ প্রতিটি কাজের শেষেও ইসতেগফার করতে হয়। কাজেই প্রতিটি কাজ ইসতেগফার দ্বারা শেষ হবে।

সুতরাং বৈঠক শেষ হবে ইসতেগফার দ্বারা। ইমাম আবূদাউদ আবু বুরজা আল-আসলামী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৈঠক শেষে উঠার সময় বলতেন,

«سُبحانَكَ اللَّهمَّ وبحمدِكَ ، أشهدُ أن لا إلَهَ إلَّا أنتَ أستغفرُكَ وأتوبُ إليكَ»

“হে আল্লাহ তুমি পবিত্র এবং তোমার প্রশংসা সহ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া আর কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে ফিরে আসছি।”

এক ব্যক্তি বললঃ আপনি এমন কথা বলেছেন যা আগে বলেননি হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন, “বৈঠকে যা কিছু হয় তার কাফফারা।”( ) এই হাদীসের সনদ হাসান। হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেন “এই হাদীসের সনদ শক্তিশালী।”

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন টয়লেট থেকে বের হতেন তখন বলতেন, «غُفْرَانَكَ» “হে আল্লাহ তোমার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।”( )

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সালামের আগে হোক বা পরে, সালাত শেষ হয় ইসতেগফারের মাধ্যমে। সালামের আগে ইসতেগফার সম্পর্কে আবূ বকর (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেছি।( ) আলেমগণ বলেছেন, এই দোয়টি তাশাহহূদের পরে পাঠ করতে হবে। আর সালামের পরে সাওবান (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেছি।( )

৬) ইসতেগফারের আরো একটি সময় হজ্বের মৌসুম। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

﴿ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ﴾ سورة البقرة 199

“অতঃপর যেখান হতে লোক প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্তনা কর; নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।” সূরা আল-বাকারা ১৯৯

৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ দিকে যখন তাঁর উপর সূরা আল-নাসর নাযিল হয় তখন তিনি তাঁর রূকু ও সাজদায় পাঠ করতেন,

«سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي»

হে আল্লাহ! গৌরব এবং প্রশংসা তোমার হে আমাদের পালনকর্তা। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর।”

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যুর সময় বার বার বলতেন,

«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لي وارْحَمْنِي وأَلْحِقْنِي بالرَّفِيقِ»

“হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে সর্বোচ্ছ সংগীর সাথে যুক্ত করুন।”

8) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নূহ আলাহিসসালামের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। সূরা নূহের শেষ অংশে আল্লাহ তা’আলা নূহের সম্প্রদায়ের ধংসের বিবরণ দেওয়ার পর নূহের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তা’আলা বলেন,

﴿رَّبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا﴾ سورة نوح (28)

“হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পিতা-মাতাকে এবং যে আমার ঘরে প্রবেশ করবে মুমিন হয়ে তাকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন। আর যালিমদের শুধু ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।” সূরা নূহ ২৮

৯) অনুরুপ পাপকর্মের পর ইসতেগফার করা মুসতাহাব বরং ওয়াজীব। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

﴿وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا﴾ سورة النساء (110)

“আর যে মন্দ কাজ করে বা নিজের উপর জুলুম করে তাপর আল্লাহর কাছে ইসতেগফার করে সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও করুণাময় পায়।” সূরা আন-নিসা ১১০

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

﴿وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ﴾ (114)

“আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের কিছু অংশে। নিশ্চয় পূণ্য কাজ পাপ দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক উপদেশ।” সূরা হুদ ১১৪

বুখারী ও মুসলিমে ইবনে মাসউদ রাযিঃ থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, এক ব্যক্তি জনৈক মহিলাকে চুম্বন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে বলল (আমি অন্যায় করেছি, আমাকে পবিত্র করুন) ইবনে মাসউদ বলেন, তখন এই আয়াত নাযিল হয়,

﴿وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ﴾ (114)

“আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের কিছু অংশে। নিশ্চয় পূণ্য কাজ পাপ দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক উপদেশ।” সূরা হুদ ১১৪

ইবনে মাসউদ বলেন, লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল, এই আয়াতটি আমার জন্য নাযিল হয়েছে? তিনি বললেনঃ “তোমার জন্য এবং আমার উম্মতের যারা এমন করবে তাদের জন্য।”

ইউনূস আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তা’আল বলেন,

﴿وَذَا النُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ﴾ (87) الانبياء

“আর স্মরণ করুন, যুন-নূনকে, যখন তিনি রাগান্বিত হয়ে চলে গেলেন এবং ভাবলেন যে, আমরা তাকে পাকড়াও করব না। তারপর তিনি অন্ধকারে এ আহ্বান করেছিলেন যে, আপনি ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই; আপনি কতইনা পবিত্র ও মহান। নিশ্চয় আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েগেছি।” সূরা আল-আম্বিয়া ৮৭

আর যখন আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দৃষ্টি অবনত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার পরেই তিনি তাওবার নির্দেশ দিয়ে বলেন,

﴿وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ﴾ المؤمنون 31

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” সূরা আল-মুমিনূন ৩১

প্রত্যেক বান্দা যে পাপ করেছে তার এই পাপ থেকে বিশেষভাবে এবং অন্যান্য সমস্ত পাপ ও সীমালঙ্গনের জন্য দ্রুত ইসতেগফার করা জরুরী, যেন সে তার প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে সমস্ত পাপ ও সীমালঙ্গন থেকে পবিত্র হয়ে। এমন অবস্থায় সে তার প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করবে যে, তার ভাল কাজগুলো মন্দ কাজের চেয়ে বেশী হবে।

১০) চন্দ্র গ্রহণের সময় ইসতেগফার করা। সুর্য ও চন্দ্র আল্লাহর দুটি নিদর্শণ। তিনি এই দুটি দ্ধারা তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«فإذا رَأَيْتُمْ شيئًا مِن ذلكَ، فافْزَعُوا إلى ذِكْرِهِ ودُعائِهِ واسْتِغْفارِهِ»

“যখন তোমরা এর কোনটি দেখতে পাবে সাথে সাথে আল্লাহর যিকির, তাঁর নিকট প্রার্থনা এবং ইসতেগফার করবে।”

১১) রাতে বিছানায় পাশ ফিরানোর সময় ইসতেগফার করা। সহীহ বুখারীতে উবাদা ইবনে সামেত রাযিঃ থেকে বর্ণিত হাদীস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বিছানায় গড়াগড়ি করতে থাকে এমন সময় সে যদি বলে,

لا إلَه إلَّا اللهُ، وَحْدَه لا شَريكَ له، له المُلْكُ وله الحَمدُ، وهو على كُلِّ شَيءٍ قَديرٌ، الحَمدُ للهِ، وسُبحانَ اللهِ، واللهُ أكبَرُ، ولا حَولَ ولا قُوَّةَ إلَّا باللهِ،

“আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা’বূদ নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই রাজত্ব এবং তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, এবং আল্লাহ পবিত্র ও মহান। আল্লাহ ছাড়া আশ্রয় নেই এবং কোন শক্তিও নেই।”

অতঃপর বলে, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لي “হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।” অথবা অন্য কোন দোয়া করে তবে তার দোয়া কবূল হবে। আর যদি সে অযূ করে সালাত আদায় করে তার সে সালাত কবূল হবে।”

১২) রাতে তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠে ইসতেগফার করা।

সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন তখন বলতেন,

اللَّهُمَّ لكَ الحَمْدُ أنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ والأرْضِ ومَن فِيهِنَّ، ولَكَ الحَمْدُ أنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ والأرْضِ ومَن فِيهِنَّ، ولَكَ الحَمْدُ أنْتَ الحَقُّ ووَعْدُكَ الحَقُّ، ولِقَاؤُكَ حَقٌّ، وقَوْلُكَ حَقٌّ، والنَّارُ حَقٌّ، والنَّبِيُّونَ حَقٌّ، ومُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ حَقٌّ، والسَّاعَةُ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لكَ أسْلَمْتُ، وبِكَ آمَنْتُ، وعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وإلَيْكَ أنَبْتُ، وبِكَ خَاصَمْتُ، وإلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لي ما قَدَّمْتُ وما أخَّرْتُ، وما أسْرَرْتُ وما أعْلَنْتُ، أنْتَ المُقَدِّمُ، وأَنْتَ المُؤَخِّرُ، لا إلَهَ إلَّا أنْتَ – أوْ: لا إلَهَ غَيْرُكَ

“হে আল্লাহ! প্রশংসা তোমারই, তুমিই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং তাদের মধ্যে যা আছে তার পালনকর্তা। প্রশংসা তোমারই, তুমিই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং তাদের মধ্যে যা আছে তার আলো। প্রশংসা তোমারই, তুমি সত্য এবং তোমার প্রতিশ্রুতিও সত্য। তোমার সাক্ষাৎ সত্য, তোমার কথা সত্য, অগ্নি (জাহান্নাম) সত্য, নবীগণ সত্য। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য, কিয়ামত সত্য।

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপর আমি বিশ্বাস রেখেছি, তোমার উপর আমি ভরসা করেছি, তোমার দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করেছি, তোমাকে নিয়ে বিতর্ক করেছি, আমি তোমার বিধান মোতাবেক বিচার করেছি।

সুতরাং আমি অতীতে যে পাপ করেছি, ভবিষ্যতে আমার দ্বারা যে পাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাও ক্ষমা করুন। আমি যা গোপন করেছি এবং যা প্রকাশ করেছি তাও ক্ষমা করুন। তুমি অগ্রে ও তুমি পশ্চাতে, তুমি ছাড়া কোন সত্য মা’বূদ নেই।”

১৩) যে যে সময়ে দোয়া করা মুস্তাহাব সেই সময়ে ইসতেগফার করা। কেননা ইসতেগফারও দোয়ার একটি প্রকার। ইহা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিকট মাগফিরাত কামনার দোয়া। পূর্বে বর্ণনা করেছি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী মোতাবেক তাওবার দোয়ার সর্বদা খোলা। তিনি বলেন,

إنَّ اللهَ عزَّ وجلَّ يبسُطُ يدَه باللَّيلِ ليتوبَ مسيءُ النَّهارِ ، ويبسُطُ يدَه بالنَّهارِ ليتوبَ مسيءُ اللَّيلِ ، حتَّى تطلُعَ الشَّمسُ من مغربِها

“আল্লাহ –আজ্জা ওয়া জাল্লা- রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের পাপী তাওবা করতে পারে। এবং দিনে তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের পাপী তাওহা করতে পারে। যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।”

অনুরুপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বেদুইনকে বলেছিলেন যে তাঁকে এমন আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল যা সে আঁকড়ে ধরবে। তদুত্তরে তিনি বলেছিলেন,

لا يزالُ لسانُك رطبًا من ذكرِ اللهِ

“যেন তোমার জিহ্বা সর্বদা আল্লাহর যিকির দ্বারা সিক্ত থাকে।”

راسلنا